এআইপ্যাক সমর্থনে বুশকে আবার হারালেন ওয়েসলি বেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে আবারও পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসের সাবেক সদস্য ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা কোরি বুশ। ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং এআইপ্যাকের (AIPAC) সমর্থন পাওয়া বর্তমান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি বেল এবারও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে ভোটের ৯৯ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হলে দেখা যায়, বেল পেয়েছেন ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বুশের ঝুলিতে এসেছে ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। ভোট শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বেলের জয় নিশ্চিত করে।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে বেল বলেন, সেন্ট লুইসের মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা ও জ্বালানির খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিভাজন নয়, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য প্রার্থীদের প্রতিও ঐক্যের আহ্বান জানান।
পরাজয় মেনে নেওয়ার ভাষণে কোরি বুশ বেলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বেল কয়েকটি প্রার্থী বিতর্কে অংশ নেননি এবং পুরো প্রচারণাজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছেন। বুশের দাবি, আগামী দুই বছর এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন এমন একজন, যিনি ভোটারদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি।
২০২৪ সালের প্রাইমারিতেও একই দুই প্রার্থীর লড়াই হয়েছিল। তখনও বুশকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন বেল। সে সময় বেলের পক্ষে প্রায় ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিল ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন এআইপ্যাক। এবার সেই ব্যয় কমে প্রায় ৩০ লাখ ডলারে নেমে এলেও সংগঠনটি আবারও বেলের পক্ষে অবস্থান নেয়।
ফল ঘোষণার পর এআইপ্যাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেলকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছে, নীতিনিষ্ঠ ও শক্তিশালী এক ডেমোক্র্যাট নেতাকে সমর্থন করতে পেরে তারা গর্বিত।
অন্যদিকে বুশ নির্বাচনী প্রচারণায় এআইপ্যাকের প্রভাবকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেন। তাঁর অভিযোগ, রিপাবলিকানপন্থী ধনকুবেরদের অর্থায়নে এআইপ্যাক ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে এবং দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি করছে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার এআইপ্যাক-সমর্থিত ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট সুপার প্যাকের ব্যয়ের বড় অংশই কোরি বুশের বিরুদ্ধে প্রচারণায় খরচ হয়েছে।
দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক পথচলায় মিলও রয়েছে। দুজনই মিসৌরিতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং ২০১৪ সালে ফার্গুসনে মাইকেল ব্রাউনকে পুলিশ গুলিতে হত্যার ঘটনার পর সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। প্রজনন অধিকার, বন্দুক সহিংসতা রোধ, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো অধিকাংশ নীতিগত প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান কাছাকাছি।
তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। কোরি বুশ কংগ্রেসে ইসরায়েলের গাজা অভিযানের কড়া সমালোচক ছিলেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়েসলি বেল ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন।
জয়ী হওয়ার ভাষণে বেল ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বেড়েছে, ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রগতিশীল রাজনীতির লক্ষ্য শুধু স্লোগান দেওয়া নয়, বাস্তব পরিবর্তন এনে মানুষের জীবনমান উন্নত করা।