সংবাদ শিরোনাম

ট্রাম্পের হেলিকপ্টার যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছে উড়ল

 প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের হেলিকপ্টার যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছে উড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান উড্ডয়নের সময় একটি যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। ঘটনাটির পর দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

এফএএ বুধবার জানায়, প্রাথমিক নিরাপত্তা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের আকাশে দুই উড়োজাহাজের মধ্যে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা আবার নিরাপদ ব্যবধানে সরে যায়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো সময়ই বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষ উভয় উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। ট্রাম্পের নিরাপত্তা কোনো সময়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়েনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, মেরিন ওয়ানের উড্ডয়নের সময় বিমানবন্দরের আকাশপথে বাণিজ্যিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে হোয়াইট হাউসের পাশের এলিপস এলাকা থেকে উড্ডয়ন করে মেরিন ওয়ান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে এটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যায়। সেখান থেকে তাঁর লস অ্যাঞ্জেলেস সফরে যাওয়ার কথা ছিল।

রয়টার্স জানায়, ঘটনায় জড়িত যাত্রীবাহী বিমানটি ছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পক্ষে পরিচালিত এনভয় এয়ারের ফ্লাইট ৩৭৪২, যার গন্তব্য ছিল ফ্লোরিডার পেনসাকোলা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিপাবলিক এয়ারের আরেকটি ফ্লাইটকেও বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যদিও এফএএ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করেনি, তবে উভয় উড়োজাহাজই নিরাপদে অবতরণ করেছে।

ঘটনাটি আবারও রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের আকাশপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই বিমানবন্দরের কাছেই একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সঙ্গে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হন।

সেই দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরটিতে সামরিক হেলিকপ্টার ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের একযোগে চলাচলের ওপর স্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে মার্চ মাসে বড় বিমানবন্দরগুলোর আশপাশে হেলিকপ্টারের জন্য শুধু দৃশ্যমানতার ভিত্তিতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পদ্ধতিও নিষিদ্ধ করা হয়।

সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড।

সূত্র: আলজাজিরা