লেবানন-ইসরায়েল সংঘাতে নিহত তিন, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত আরও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক লেবাননি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিস্ফোরক পেতে রাখা একটি ভবনে বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার দক্ষিণ লেবাননের তিবনিন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি কবরস্থানের নামাজঘরের ছাদে আঘাত হানে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন।
এর আগে দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন গ্রামে বিস্ফোরক পেতে রাখা একটি ভবনের ভেতরে বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এতে আরও একজন সেনা গুরুতর আহত এবং কয়েকজন আহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে নিহত দুই রিজার্ভ সেনার পরিচয় প্রকাশ করে। তারা হলেন হারেল বিরেনস্টক ও তামির ভাকনিন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৩৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২৫০ জন আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর নতুন হামলা
দুই সেনার মৃত্যুর পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় তারা ‘নির্ভুল লক্ষ্যভিত্তিক হামলা’ শুরু করেছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আল-মানসুরি এলাকার বাসিন্দাদের উত্তর দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওই এলাকায় আরও হামলা চালানো হতে পারে।
আল জাজিরার বৈরুত প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, যেখানে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন, সেই গ্রামটি এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটিতে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি নেই বলেই এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ফিরে আসা অনেক বাসিন্দাই আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
রোমে আলোচনা অব্যাহত
ইতালির রাজধানী রোমে বুধবার লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এই আলোচনা চলার কথা রয়েছে।
বৈরুতের প্রধান দাবি, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পরীক্ষামূলক কয়েকটি এলাকায় দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে এবং অস্ত্র সমর্পণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেন, এই আলোচনা লেবাননের জন্য ‘অপমান, লাঞ্ছনা এবং ধারাবাহিক ছাড় দেওয়া ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না’।
নতুন সহিংসতার ঘটনায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা