সংবাদ শিরোনাম

আদালতের রায়ে শুল্ক ফেরত দিল ট্রাম্প প্রশাসন অবশেষে

 প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আদালতের রায়ে শুল্ক ফেরত দিল ট্রাম্প প্রশাসন অবশেষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমদানি শুল্ক বাবদ আদায় করা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্ককে আদালত অবৈধ ঘোষণা করার পর এই অর্থ ফেরত দেওয়া হলো।

মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে ট্রাম্প প্রশাসন আমদানিকারকদের কাছ থেকে মোট প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছিল।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে দাখিল করা নথিতে সিবিপি জানায়, সম্ভাব্য ও অনুমোদিত ফেরত হিসেবে নির্ধারিত ১২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সিবিপির ট্রেড পলিসি অ্যান্ড প্রোগ্রামস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ব্র্যান্ডন লর্ড আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী অনুমোদিত ফেরতের অর্থ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে।

কেন বাতিল হয়েছিল শুল্ক?

ফেব্রুয়ারির রায়ে ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেয়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

এই আইনের আওতায় ট্রাম্প কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর ফেন্টানিল–সংশ্লিষ্ট শুল্ক এবং ৯০টির বেশি দেশের ওপর তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন।

রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ছয় বিচারপতিকে ‘বোকা’ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘অনুগত’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তবে আদালতের সিদ্ধান্তে ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট শিল্পখাতে আরোপ করা শুল্ক বহাল থাকে। ফলে ইস্পাত, গাড়ি ও তামাসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

নতুন শুল্ক নিয়েও আইনি লড়াই

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্চে কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড নির্দেশ দেয়, বাতিল হওয়া শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।

তবে আদালতের ওই রায়ের পরও নতুন শুল্ক আরোপের নীতি থেকে সরে আসেনি ট্রাম্প প্রশাসন।

গত মাসে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে কয়েক ডজন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণা করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। সোমবার নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও কলোরাডোসহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, নতুন শুল্কের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে আদালত যে শুল্ক বাতিল করেছিল, সেটিই ভিন্ন উপায়ে আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement