মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মনোনয়নে জয় আবদুল এল-সায়েদের বড়

 প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মনোনয়নে জয় আবদুল এল-সায়েদের বড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জিতেছেন প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারে ৬ কোটির বেশি ডলার ব্যয়ের বিপরীতে এই জয়কে দলটির ভেতরে প্রো-ইসরায়েল লবির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বুধবার ফল ঘোষণা করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে এল-সায়েদ মাত্র ১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারান।

এল-সায়েদের বিপক্ষে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এইপ্যাক)। সংগঠনটি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটিরও বেশি ডলার ব্যয় করে। সব মিলিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচার ব্যয় ৬ কোটির ডলার ছাড়িয়ে যায়।

আগামী নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনগুলোর একটি হিসেবে মিশিগানকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই আসনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত এল-সায়েদ নভেম্বরে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে প্রভাবের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই ফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যপ্রাচ্য নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এল-সায়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সংঘটিত ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাতে ব্যয় করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত।

আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি বলেন, ভোটাররা নেতিবাচক প্রচারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ভাষায়, “বিজ্ঞাপনগুলোতে নীতিগত বিতর্কের পরিবর্তে একজন আরব-আমেরিকান মুসলিম প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। কিন্তু মিশিগানের ভোটাররা সেই প্রচারণায় সাড়া দেননি।”

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদের এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও ভোটের রাতে হেইলি স্টিভেন্স প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেন। বিশেষ করে মিশিগানের বৃহত্তম শহর ডেট্রয়েটে তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। ফলে ভোট গণনা শেষ হতে অনেক সময় লেগে যায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে ফল অনিশ্চিত ছিল।

অবশেষে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এল-সায়েদ লেখেন, “মিশিগান, আমরা জিতেছি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত। এবার নভেম্বরে জয়ের লড়াই।”

ফল ঘোষণার পরপরই হেইলি স্টিভেন্স এল-সায়েদকে অভিনন্দন জানান এবং সাধারণ নির্বাচনে তাঁর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা, রোডস স্কলার এবং মিশিগানের নিবেদিতপ্রাণ সন্তান। মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচারণায় আমি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি।”

প্রাইমারিতে স্টিভেন্সকে সমর্থন দেওয়া মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এবং সিনেটর গ্যারি পিটার্সও পরে এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান।

দলকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান

জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই সমর্থকদের উদ্দেশে এল-সায়েদ বলেন, প্রাইমারির বিভক্তি ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, “জয়ের পর উদার মানসিকতা দেখাতে হবে। ‘আমি আগেই বলেছিলাম’-এমন মনোভাব নয়। আমাদের আরও বড়, আরও শক্তিশালী একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যা পুরো মিশিগানের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।”

একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে লক্ষ্য করে বলেন, সাধারণ নির্বাচনই হবে আসল লড়াই। রজার্সকে ট্রাম্প ও করপোরেট স্বার্থের প্রতিনিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাইক, আমরা আসছি।”

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সায়েদের জয়কে রিপাবলিকানদের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, এল-সায়েদের বিজয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও বামপন্থী অবস্থানের দিকে নিয়ে যাবে এবং সেটি রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দেবে। একই পোস্টে তিনি এল-সায়েদ সম্পর্কে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্যও করেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement