সংবাদ শিরোনাম

তেহরানে যুদ্ধের ক্ষতি ৫০ হাজার বাড়িতে

 প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তেহরানে যুদ্ধের ক্ষতি ৫০ হাজার বাড়িতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের রাজধানী তেহরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান সিটি করপোরেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে শহরটিতে ৫০ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৫০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা অনুষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। যুদ্ধের পর রাজধানীতে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪ নম্বর এলাকায় সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে। এরপর রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের ২১ নম্বর এলাকা, উত্তরাঞ্চলের ১ নম্বর এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ নম্বর এলাকা।

তেহরান সিটি করপোরেশনের নির্মাণ বিশেষজ্ঞ হোসেইন নুহি অনুষ্ঠানে বলেন, শুধু ৪ নম্বর এলাকায় যত হামলা হয়েছে, তা ইরানের কয়েকটি প্রদেশের মোট হামলার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ৪ নম্বর এলাকায় ৯০টি, ২১ নম্বর এলাকায় ৬২টি, ১ নম্বর এলাকায় ৫৭টি এবং ২২ নম্বর এলাকায় ৫৫টি হামলা হয়েছে। সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭ নম্বর এলাকা, যেখানে তিনটি হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তেহরান সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য বিভাগের হিসাবে, শহরের ৫০ হাজার ৮৪৯টি আবাসিক ইউনিট কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বাড়িতে ছোটখাটো মেরামতের প্রয়োজন হয়েছে।

প্রায় ৮ হাজার ৯০০ বাড়িতে বড় ধরনের স্থাপত্যগত ক্ষতি হয়েছে। ৪১৫টি ভবনের কাঠামোগত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ দরকার এবং ২ হাজার ৪২টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যেগুলো নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের সংখ্যায়ও এগিয়ে রয়েছে তেহরানের ৪ নম্বর এলাকা। সেখানে ৭ হাজার ৯৪৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে ২ নম্বর এলাকায় ৪ হাজার ৩৭টি, ১৫ নম্বরে ৩ হাজার ৪৯০টি, ১১ নম্বরে ৩ হাজার ৪৩২টি এবং ২১ নম্বরে ৩ হাজার ২০৫টি বাড়ি।

পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া বাড়ির সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ৭ নম্বর এলাকায়, যেখানে ৪২৯টি বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এরপর রয়েছে ৪ নম্বর এলাকায় ৩২৫টি এবং ১১ নম্বর এলাকায় ২৪৮টি বাড়ি।

তেহরান সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা নুহি জানান, ৪০ দিনের এই সংঘাতে ইরানের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৮০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে মানসিক ক্ষতি এবং শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারের ব্যয় ধরা হয়নি।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধ নতুন উঁচু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

এদিকে ভূতত্ত্ববিদ মেহদি জারে জানান, সামরিক হামলার কারণে ১ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত নগর এলাকাগুলোতে প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বর্জ্যের মধ্যে কংক্রিট, ইস্পাত, কাচ, অ্যাসবেস্টস ও শিল্পদূষণকারী উপাদান রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জারে আরও জানান, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতিকে আরও বাড়িয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement