ইরানে মার্চ থেকে মৃত্যুদণ্ড ৫৬ জনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক বুধবার এ তথ্য জানিয়ে তেহরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
টুর্ক বলেন, ১৯ মার্চের পর থেকে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৭ জন চলতি বছরের শুরুর দিকের বিক্ষোভসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। আরও শতাধিক মানুষ একই ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন।
তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে ধীরে ধীরে মৃত্যুদণ্ডের প্রথা বিলুপ্ত করার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক তরুণদের সাম্প্রতিক কয়েকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব রায় ঠেকাতে অভিযুক্তদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ কারাগারের সামনে জড়ো হয়েছিলেন।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার শাহরুদ কারাগারে ২০ বছর বয়সি আরভিন খেইরখাহর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
খেইরখাহকে ‘মোহারেবে’ বা ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’সহ কয়েকটি অভিযোগে বিপ্লবী আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তার পরিবার মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করে কারাগারের বাইরে অবস্থান নিয়েছিল। মৃত্যুর আগে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথোপকথনে তিনি তাকে যেন ভুলে না যাওয়া হয়, সেই অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এর কয়েক দিন আগে ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারে আমিরহোসেইন সাফারি ও আবোলফজল সেপাহির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা জানুয়ারির বিক্ষোভসংক্রান্ত একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ তরুণের মধ্যে ছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, ওই মামলার আসামিরা চার নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন। ওই মামলায় গোলমোহাম্মদ মোহাম্মদি ও এরফান এসফানদিয়ারির মৃত্যুদণ্ডও ১৯ জুলাই কার্যকর করা হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের প্রতি ওই মামলার বাকি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক শুনানিতে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, তা-ও গোপন আদালত প্রক্রিয়ায় এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায় স্পষ্ট না করে—আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের বয়স কৈশোরের শেষভাগ থেকে বিশের কোঠার শুরুতে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নির্বিচারে আটক, গুম এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অনেক মামলায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বীকারোক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপ্লবী আদালতের শুনানি বন্ধ দরজার আড়ালে হওয়া এবং রায় প্রকাশ না করার বিষয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।