যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামানোর মধ্যস্থতায় কাতার: তেলের বাজারে বড় স্বস্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় এখনো পৌঁছানো যায়নি। এদিকে আলোচনার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীরা ‘খুব অগ্রসর পর্যায়ে’ কাজ করছে। কাতার, পাকিস্তান ও ওমান যৌথভাবে আলোচনার উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে শুধু ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য মঙ্গলবার বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও আলোচনা এগোচ্ছে এবং দ্রুতই অগ্রগতি হতে পারে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও আশা প্রকাশ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। কাতারের মন্তব্যের পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে, শিগগিরই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবার খুলে যেতে পারে।
তবে বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে এখনো জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। হামলার পর জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং একজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। তেহরানের দাবি, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত। তবে গত সপ্তাহে ওমানের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ তদারকি ও স্বেচ্ছা ফি আদায়ের প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, তেহরান প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং বেরিয়ে যাওয়া জাহাজের গতিবিধির ওপর নজরদারির ক্ষমতা চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এমন নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের সক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী দূরপাল্লার উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করেছে।
গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তারা ও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান জ্বালানি অবকাঠামো, নৌপথ ও বাণিজ্যিক রুটকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ বাড়াতে চাইছে।
ওয়াশিংটন যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, আঞ্চলিক হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরির যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।