ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের বের হওয়ার পথ কোথায়?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুস্পষ্ট কৌশল এখনো তৈরি করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কখনো দাবি করছেন শান্তিচুক্তি খুব কাছাকাছি। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তাঁর অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত এভাবে পরিচালিত হয় না।
এর আগে ট্রাম্প ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে। সর্বশেষ তিনি তেহরানকে ‘শেষ সুযোগ’ দিয়ে বলেছেন, ইরানকে হয় সমঝোতা করতে হবে, নয়তো ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তবে পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে দেখা গেছে, এসব হুমকিতে ইরান খুব একটা বিচলিত হয়নি।
হোয়াইট হাউসে নীতিগত অস্থিরতার কারণও স্পষ্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের আহ্বানে দ্রুত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সমালোচকদের মতে, আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায় আগের মার্কিন সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হলে হয়তো এমন সিদ্ধান্ত এড়ানো যেত। কিন্তু ট্রাম্পের নেতৃত্বে সে ধরনের গভীর রাজনৈতিক মূল্যায়নের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যদিও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর সামরিক বিকল্প এখন আগের তুলনায় অনেক সীমিত। এমনকি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে ইরানকে ‘শাস্তি দেওয়ার নতুন ও ব্যতিক্রমী উপায়’ জানতে চেয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের নীতিগত অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।
একই সময়ে সৌদি আরবও নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা, নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চল আরও গভীর সংকটে পড়বে।
সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে স্বীকার করা যে তাঁর ঘোষিত সামরিক অভিযান প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি, আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি তেহরানের সমর্থনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আরও বেড়েছে।
আরও একটি বিষয় এই সংঘাতের ফলাফলকে জটিল করেছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থানের নেতৃত্ব সামনে এসেছে।
এ অবস্থায় বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ওয়াশিংটনের উচিত সংঘাতমুখী ভাষা থেকে সরে এসে তেহরানের সঙ্গে সম্মানজনক কূটনৈতিক সংলাপের পথ খোঁজা। তাদের মতে, ইরান যে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে পারে।
তাদের সতর্কবার্তা, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু হুমকি ও সামরিক চাপের নীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ইরান আরও কঠোর অবস্থানে চলে যেতে পারে।