সংবাদ শিরোনাম

হরমুজ খুলতে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

 প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ খুলতে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দিতে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে।

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং বুধবার অথবা এর পরের দিনই একটি চুক্তি হতে পারে। এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলবে, অন্যথায় ইরান কঠিন সামরিক জবাবের মুখে পড়বে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ। চলমান সংকটে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

যুক্রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। মঙ্গলবার ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাহাজের একজন নাবিক নিখোঁজ হন। একই দিনে ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার পর ডুবে যায়। যদিও ওই হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে—এমন দাবি অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমান ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনায় ওয়াশিংটনও সম্পৃক্ত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতার ঘোষণা দ্রুত দিতে চায়।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সমঝোতা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর মতে, পারমাণবিক ইস্যুর সমাধানে কিছুটা সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা বা ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ বহাল থাকতে পারে।

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেও ইরান এখনও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও তারা প্রভাব বিস্তার করছে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগরের গুরুত্বও বেড়েছে। তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবগামী নৌপথে অবরোধ ঘোষণা করার পর সেখানেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। গাজা যুদ্ধের সময় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজকে সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হয়েছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement