সংবাদ শিরোনাম

পশ্চিম তীরে অভিযানে ফিলিস্তিনি আটক, সাংবাদিককে মারধর

 প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে অভিযানে ফিলিস্তিনি আটক, সাংবাদিককে মারধর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের সময় একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ইসরায়েলি সেনারা শিবিরজুড়ে লিফলেট ছড়িয়ে দিয়ে জানায়, সেখানে একটি ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ চলছে।

অভিযান কাভার করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে ইসরায়েলি সেনারা মারাত্মকভাবে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে এক তরুণকে একটি সামরিক গাড়ি চাপা দেয়। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা নিরস্ত্র বলে মনে হওয়া এক ফিলিস্তিনিকে ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তাঁর দিকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তাক করে রাখে। অভিযানের সময় স্থানীয় মসজিদগুলোতেও ফজরের নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছে। ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা বি’ৎসেলেমের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য অধিকৃত পশ্চিম তীরকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে।

কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা অধিকৃত অঞ্চলের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিতে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। তবে এই অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এটি গণগ্রেপ্তার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নাকি আরও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান-সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন প্রবেশপথ পাথরের স্তূপ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ক্র্যাডল’-এর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী শিবিরে যাওয়ার একাধিক পথ অবরুদ্ধ করে দেয়।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেনাবাহিনীকে আরও একটি শরণার্থী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ দেন। জেনিন, তুলকারেম ও নুর শামস শিবিরে যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হয়েছে, নতুন এলাকাতেও একই কৌশল অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও জাতিগত উচ্ছেদ ও যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব হামলায় ইসরায়েলি সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে। সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে দেশটির কট্টরপন্থি দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement