মিশিগান প্রাইমারিতে ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিভক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান, মিসৌরি, কানসাস ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটদের দ্বন্দ্ব এবারও নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি নজর ছিল মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মনোনয়ন লড়াইয়ে। বুধবার ভোর পর্যন্ত ভোট গণনায় ৯১ শতাংশ ফলাফল পাওয়ার পর দেখা যায়, প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট নিয়ে সামান্য এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যপন্থি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
মিশিগানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু একটি সিনেট আসনের জন্য নয়, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অঙ্গরাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘সুইং স্টেট’ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের সমর্থনই প্রায় সমান। ফলে এখানে প্রগতিশীল কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পেলে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সুবিধা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সায়েদ তাঁর প্রচারণায় সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কার এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে চার মেয়াদের কংগ্রেস সদস্য স্টিভেন্স উৎপাদন খাত, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে প্রচারের মূল বিষয় করেন। কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি নিজেকে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
স্টিভেন্সের প্রচারণায় বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে কয়েক কোটি ডলারের সহায়তা এসেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থি সংগঠন এআইপ্যাকের রেকর্ড পরিমাণ অনুদানও রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মিশিগানে গভর্নর পদে রিপাবলিকান মনোনয়ন জিতেছেন জন জেমস, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। নভেম্বরে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জসলিন বেনসনের মুখোমুখি হবেন। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যের সপ্তম কংগ্রেসনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন পেয়েছেন প্রগতিশীল সংগঠক উইলিয়াম লরেন্স।
মিসৌরিতে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট কোরি বুশ দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ওয়েসলি বেলের কাছে পরাজিত হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত বুশকে হারাতে ইসরায়েলপন্থি একটি সুপার পিএসি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। রিপাবলিকানদের পক্ষে পল বেরি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পান।
মিসৌরিতে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া কঠোর করার প্রস্তাবও ভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ৩ শতাংশ।
কানসাসে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মনোনয়ন জিতেছেন অ্যাডাম হ্যামিল্টন। নভেম্বরে তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পেয়েছেন সিন্ডি হোলশার এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন টাই মাস্টারসন।
একই সঙ্গে কানসাসের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে সব দলের প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সুজান ডেলবেনে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মেরি সিলভা পেয়েছেন ২৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। তবে ভোট গণনা এখনও চলমান।
অঙ্গরাজ্যের তৃতীয় কংগ্রেসনাল জেলায় মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ প্রগতিশীল প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে সাধারণ নির্বাচনে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন ব্রাউন।
সূত্র: আলজাজিরা