সাও পাওলোর রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো, ব্রাজিল
ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর সাও পাওলো অঞ্চলের ইতাকুয়াকেসেতুবা (Itaquaquecetuba) শহরের একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে দমকল বাহিনী।
দমকল সূত্র জানায়, আগুন লাগে Quema Química নামের একটি প্রতিষ্ঠানে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত দ্রাবক (solvent) ও রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ করা হতো। কারখানাটিতে প্রায় ২৪টি বড় সলভেন্ট ট্যাংক থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের অন্তত ১৫০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দমকল বাহিনীর ৩০টিরও বেশি ফায়ার ট্রাক এবং ৬০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। রাসায়নিক পদার্থের কারণে উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে রাসায়নিক ড্রাম আকাশে ছিটকে যায়। তীব্র তাপের কারণে ভূগর্ভস্থ নর্দমা দিয়ে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি ম্যানহোলের ঢাকনাও বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘন কালো ধোঁয়া ও সম্ভাব্য বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।