সংবাদ শিরোনাম

ক্ষমতা ছাড়ার আগেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পেত্রোর

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা ছাড়ার আগেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পেত্রোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র কয়েক দিন আগে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন কলম্বিয়ার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি দাবি করেছেন, গত জুনের নির্বাচনে ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়ার বিজয় বৈধ নয়। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এই অভিযোগ আগেই নাকচ করেছেন।

সোমবার রাজধানী বোগোটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বামপন্থী নেতা পেত্রো বলেন, ভোট গণনার তথ্য জাতীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর হাজার হাজার ফলাফলের নথি কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, পুরো নির্বাচন ছিল ‘অস্বচ্ছ’ এবং বিদেশি শক্তির প্রভাবে তা প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেটাডেটা পর্যালোচনার জন্য প্রকাশ করা হয়নি।

অবশ্য কলম্বিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, রক্ষণশীল রাজনীতিক ও আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়া পেত্রোর সমর্থিত প্রার্থী ইভান সেপেদাকে আড়াই লাখ ভোটে পরাজিত করেছেন।

আগামী শুক্রবার কংগ্রেসে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের। বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ী প্রেসিডেন্টের এমন অভিযোগ নতুন সরকারের প্রতি কিছু ভোটারের আস্থা দুর্বল করতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

২০২২ সালে কলম্বিয়ার প্রথম সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসা পেত্রো সংবিধান অনুযায়ী টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ফলাফল অনুমোদন করায় ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকানোরও তাঁর কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

তবু পেত্রো বলেন, ‘আমরা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। একটি অবৈধ প্রেসিডেন্ট শপথ নিতে যাচ্ছেন।’

ক্ষমতার শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও পেত্রোর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী শক্তিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি বামপন্থী সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়।

গত অক্টোবরে ট্রাম্প পেত্রোকে ‘অবৈধ মাদকচক্রের নেতা’ বলে আখ্যা দিয়ে কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। জবাবে পেত্রো ট্রাম্পকে ‘অভদ্র’ এবং ‘কলম্বিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী কারাকাস থেকে আটক করার পর ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান চালাবেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘শুনতে ভালো লাগছে।’

এর কয়েক সপ্তাহ পর ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারে পেত্রোর সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত শুরু করেন মার্কিন প্রসিকিউটররা।

সোমবার পেত্রো দাবি করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁকে দেশ থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সমর্থকদের বিক্ষোভের আহ্বান জানান এবং গ্রামীণ এলাকায় ‘মুক্তি রক্ষী’ গঠনের ডাক দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে শান্ত থাকতে। কিন্তু একজন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে আমি এই নির্বাচনী জালিয়াতি মেনে নিতে পারি না।’

এক্সতেরনাদো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আন্দ্রেস মাসিয়াস মনে করেন, পেত্রোর এই আহ্বান সংঘাতপ্রবণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে। সেখানে আগে থেকেই সেনাবাহিনী, মাদক চক্র এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলমান।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement