সংবাদ শিরোনাম

হামাস নিরস্ত্রীকরণে গাজা ছাড়বে ইসরায়েল, শান্তি বোর্ডের শর্ত

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হামাস নিরস্ত্রীকরণে গাজা ছাড়বে ইসরায়েল, শান্তি বোর্ডের শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে বোর্ডের মহাপরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এ অবস্থান জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সমঝোতার ঘোষণা দেন, তা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষের মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর বোর্ড অব পিস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ভুল তথ্যের বিপরীতে আমরা স্পষ্ট করছি, মধ্যস্থতাকারীদের কাছে হামাস যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেই অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ইসরায়েলি বাহিনী ইয়েলো লাইনের পেছনে সরে যাবে। এই শর্ত হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’

‘ইয়েলো লাইন’ বলতে গাজার ভেতরে সেই সীমারেখাকে বোঝানো হচ্ছে, যার পেছনে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে।

বোর্ড আরও জানায়, গাজার সব ধরনের অস্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সশস্ত্র শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল চুক্তির নিজস্ব অংশ বাস্তবায়ন না করলে তারা এই সমঝোতা কার্যকর করবে না।

বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, আলোচনায় ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবে ইসরায়েল সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ঘোষণার পরও নিহত হয়েছেন ৩৬ জনের বেশি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, প্রকাশিত চুক্তির ভাষ্য ইসরায়েলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এ বিষয়ে তাদের আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জোট সরকারের নেতারাও চুক্তি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দাবি করেন, প্রকাশিত চুক্তি সরকার অনুমোদিত খসড়ার সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’। তিনি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নতুন করে মন্ত্রিসভার ভোটের দাবি জানান।

অতীতেও আলোচনায় সমঝোতার পর অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকদের মতে, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় গাজায় ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার চাপও নেতানিয়াহু সরকারের ওপর রয়েছে।

সপ্তাহান্তের হামলার সমালোচনা করে ম্লাদেনভ বলেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হলেও তা সম্ভব, যদি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে। যদিও তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেননি।

চুক্তির মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ক এক যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, তারা এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন তারা বোর্ড অব পিস ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement