ইরান আলোচনা জল্পনায় ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার, তেলের দর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই চাঙা হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট। বিনিয়োগকারীদের আশাবাদে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো বড় উল্লম্ফন করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেন শুরুর পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ সমাপনী অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। ২ জুন গড়া ৭ হাজার ৬২০ দশমিক ৯০ পয়েন্টের রেকর্ড ছুঁতে আর সামান্য ব্যবধান রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে সেটি এখনো ২ জুনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ নিচে রয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে ৫৩ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪১ পয়েন্টে ওঠে।
দামের এই উত্থানে নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। অ্যাপল ছাড়া তথাকথিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর বাকি সব কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার ৬ শতাংশ এবং মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের শেয়ার ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এনভিডিয়ার শেয়ার ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বাজার বন্ধ হওয়ার পরও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। এসঅ্যান্ডপি ৫০০–সংশ্লিষ্ট ফিউচার সূচক আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশের বেশি বাড়ে।
বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমকর্পের ইনভেস্টমেন্ট ডিসিশন রিসার্চ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেলিসা ব্রাউন আল জাজিরাকে বলেন, সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির তুলনায় এই উত্থানের মাত্রা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, বাজারে নেতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও এমন উল্লম্ফনের পেছনে শক্তিশালী মৌলিক অর্থনৈতিক কারণ স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। তবে মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেন শুরুর পর দাম কিছুটা বেড়ে জিএমটি সময় সকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে ওঠে, যা আগের দিনের সমাপনী দামের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
বাজারের এই ওঠানামার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা কাজ করছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন করে সামরিক হামলার আগে তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘শেষ সুযোগ’ দিতে চান তিনি।
এর এক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।
তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো আলোচনা চলছে না এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকেরও পরিকল্পনা নেই।
বাঘাই বলেন, বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় আসবে।
সূত্র: আলজাজিরা