সুদানে ড্রোন হামলায় আদালতে নিহত পঁয়ত্রিশ, উত্তেজনা তীব্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সুদানের উত্তর দারফুরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতে চলা শুনানির সময় এ হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে হামলাটি হয়। সে সময় স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বহু মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি গাছের নিচে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। হামলায় চারজন গোত্রীয় নেতা এবং আরএসএফের দুই কমান্ডারও নিহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনার পরপরই সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আরএসএফের ঘোষিত সমান্তরাল সরকার হামলাটিকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় ৩৭ জন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি উত্তর দারফুরের কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে আরএসএফ এল-ফাশের দখলে নেওয়ার পর অঞ্চলটির বেশির ভাগ এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা এর আগে জানিয়েছিলেন, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় ‘গণহত্যার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য’ রয়েছে।
এল-ফাশের দখলের পর থেকে সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
সম্প্রতি রাজধানী খার্তুম ও এল-ওবেইদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো এক ভিডিও বার্তায় তাঁর যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।
দক্ষিণ কর্দোফানের বৃহত্তম শহর এল-ওবেইদও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, আরএসএফ নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করলে কর্দোফান অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তাঁর সাবেক মিত্র, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলোর মধ্যে চলমান যুদ্ধে কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুদ্ধের দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে আরএসএফের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা, লুটপাট এবং ব্যাপক গণহত্যাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।