ইরানে কিশোরদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

 প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানে কিশোরদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানে জানুয়ারির গণবিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া আরও কয়েকজন কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাড়িয়ে সরকার ভিন্নমত দমনের নীতি আরও কঠোর করেছে।

শনিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ডিফেন্ডার্স অব চিলড্রেনস রাইটস ইন ইরান এবং সেন্টার ফর জাস্টিস ফর চিলড্রেন জানায়, ইসফাহানের ১৮ বছর বয়সী শেরভিন বাঘেরিয়ানের মৃত্যুদণ্ড যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে। জানুয়ারির বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সংগঠন দুটির দাবি, বাঘেরিয়ানের মামলা দেখায় যে ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ইরানে এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এই সতর্কবার্তা আসে একই মামলার আরেক আসামি ২০ বছর বয়সী আরভিন খেইরখাহকে শনিবার ভোরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কয়েক দিনের মধ্যেই। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বাঘেরিয়ানসহ একই মামলার অন্য আসামিদেরও শিগগিরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে।

সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই কিশোর—আমির নোরোল্লাহি ও আমিরহোসেইন হাতামিকেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে কাজ করা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত জানুয়ারির বিক্ষোভে আটক অন্তত ১৮৪ জন কিশোর এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ১২ জন এখনো একই ঝুঁকিতে রয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন এবং চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণ ও কিশোরদের লক্ষ্য করেই দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসব আন্দোলনে বহু শিশু ও কিশোর নিহত, আহত এবং গ্রেপ্তার হয়েছিল।

অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, জানুয়ারির বিক্ষোভের পর থেকেই ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিষয়ক অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাদের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় এবং পরে যুদ্ধকালীন নিরাপত্তার অজুহাতে সরকার দমন-পীড়ন আরও বিস্তৃত করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ। অথচ ইরান এই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে।

সংগঠন দুটি আরও অভিযোগ করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ (সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা) এবং ‘এফসাদ ফিল আরজ’ (পৃথিবীতে দুর্নীতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) মতো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হচ্ছে। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং ন্যায্য বিচার না পাওয়ার মতো প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের আগে সংঘটিত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড অবিলম্বে বন্ধে ইরানের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement