হরমুজ চুক্তির দাবি নাকচ করল তেহরান, সতর্ক সেনাবাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি এবং ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধও জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার রূপরেখা তৈরি হওয়ায় তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন। তাঁর দাবি ছিল, তেহরান নতুন হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’। সংস্থাটির দাবি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের অন্যান্য গণমাধ্যমও ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ করেছে। কট্টরপন্থী দৈনিক কায়হান লিখেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হুমকি ও দম্ভোক্তির পর ট্রাম্প আবারও নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। মেহরও মন্তব্য করেছে, ফাঁপা হুমকি প্রত্যাহার করে ট্রাম্প সেটিকেই বিশ্ববাসীর সামনে সদিচ্ছার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি আপস প্রস্তাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্মতি দেওয়ার পরই ট্রাম্প হামলা স্থগিত করেন। দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাব অনুযায়ী জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে ইরান-নিয়ন্ত্রিত করিডোর দিয়ে এবং বের হবে ওমানের দিকের করিডোর ব্যবহার করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওমান এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সমঝোতা মেনে চলবে—এমন নিশ্চয়তা চেয়েছে। কাতার সেই নিশ্চয়তা আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য ফি নিয়ে কোনো তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি, যদিও এটিই আলোচনার অন্যতম প্রধান জটিল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনও সরাসরি নাকচ করেছে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি। আলোচনায় যুক্ত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ফার্স আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে বৈরী অবস্থান বজায় রাখবে, ততদিন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে আইআরজিসির ভূমিকা এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার বিষয়। কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের অবস্থানের সঙ্গে বাহিনীটির নীতিগত মিল কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বর্তমানে ওই জলপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে আগে আইআরজিসির অনুমতি নিতে হচ্ছে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে।