কুশনারের বার্তা বদলে পোস্ট মুছলেন দাহলান, ধোঁয়াশা অব্যাহত

 প্রকাশ: ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কুশনারের বার্তা বদলে পোস্ট মুছলেন দাহলান, ধোঁয়াশা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হতে যাচ্ছে-এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই মুছে ফেলেছেন নির্বাসিত ফিলিস্তিনি নেতা মোহাম্মদ দাহলান। পরে সংশোধিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে কাজ করছেন, তবে তা কবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সূচি দেননি।

শনিবার রাতে দেওয়া প্রথম পোস্টে দাহলান দাবি করেছিলেন, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ১৫ দফার নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার পর কুশনার তাঁকে জানিয়েছেন, রোববার সকাল থেকেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে। তবে দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি পোস্টটি মুছে দিয়ে নতুন বার্তায় লেখেন, হামলা বন্ধে এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

দাহলানের এই মন্তব্য আলোচনায় আসে, কারণ ইসরায়েল সরকার তখন পর্যন্ত হামলা বন্ধের কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং শনিবারও গাজাজুড়ে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা কার্যকর হলে এসব হামলা বন্ধ হওয়ার কথা।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক গাজা নিরাপত্তাপ্রধান দাহলান বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। গাজা-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কুশনারের উদ্যোগেও তিনি পরামর্শ দিয়ে আসছেন। দাহলানের এক সহযোগী সম্প্রতি দাবি করেন, কুশনার ও বিভিন্ন ফিলিস্তিনি পক্ষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাবে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে একাধিক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত মনে করছে না তেল আবিব। তাই পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকলেও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে এখনই রাজি নয় ইসরায়েল।

অন্যদিকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস পরিকল্পনাটি অনুমোদন করলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এই উদ্যোগ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা কার্যকর হলে প্রথম দুই সপ্তাহে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি টেকনোক্র্যাটিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেছেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইসরায়েলের। তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

তবে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আয়মান আহমেদ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি তারা বহুবার শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আর ইসরায়েলি হামলায় একটি পা হারানো টুকটুকচালক আবদেল মোনেইম আবুল-রুস বলেন, অস্ত্র সমর্পণ বা সেনা প্রত্যাহারের আলোচনার চেয়ে মানুষের কাছে এখন খাদ্য ও ওষুধের সংকটই বড় বাস্তবতা।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাতে গাজায় হামাসের পাঁচটি অস্ত্রগুদামে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনায় রাইফেল, বিস্ফোরক, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মজুত ছিল। একটি গুদাম দেইর আল-বালাহর শহীদ আল-আকসা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ছিল বলেও দাবি করেছে তারা।

অপরদিকে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই হামলায় হাসপাতালের দুটি ওষুধের গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি গুদাম ও বহির্বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ডায়ালাইসিস রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement