সংবাদ শিরোনাম

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে নতুন প্রত্যাশা

 প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে নতুন প্রত্যাশা

ডেক্স নিউজ:

পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে তিনি তুরস্কের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন। পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, শনিবার সেনাপ্রধান দেশে ফেরেন। সফরের শুরুতেই তিনি তুরস্কের জাতির জনক ও প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সফর চলাকালে সেনাপ্রধান তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার, চিফ অব দ্য তুর্কিশ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু, তুর্কি স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল এবং ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রিসেপ এরদিনক ইয়েতকিনের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি (এসএসবি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন।

তুর্কি স্থলবাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

সফরের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান তুরস্কের বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আসিসগার্ড (Asisguard), তুসাস (TUSAŞ), এমকেই (MKE), সারসিলমাজ (Sarsılmaz), এসটিএম (STM), রকেটসান (Roketsan), আসেলসান (ASELSAN) এবং বায়কার (Baykar)

পরিদর্শনের সময় তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করেন।

আইএসপিআরের মতে, সেনাপ্রধানের এ সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement