তেল আবিবে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার নয়, বাড়ছে পশ্চিম তীর উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে ইসরায়েলের তেল আবিবে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাজধানীর কাপলান স্ট্রিটে দুই শতাধিক মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভের আয়োজন করে বামপন্থী হাদাশ পার্টি ও তাদের মিত্ররা। অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সেখানে ইসরায়েলি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ‘মাদারস অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ নামে একটি সংগঠন অভিযোগ করেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে এবং অন্তত নয়জনকে আটক করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং বিক্ষোভকারীরা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
এই বিক্ষোভের এক দিন আগে নাবলুসের কাছে তাল শহরে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অভিযানের সময় সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় দুই ইসরায়েলিও প্রাণ হারান।
স্থানীয় ফাতাহ নেতা ইসাম সাইফির ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি হাভাত গিলাদের পাশ থেকে প্রায় ৩০ জন বসতি স্থাপনকারী তাল শহরে প্রবেশ করে দুটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তারা গুলি চালায়। পরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি একজন বসতি স্থাপনকারীর রাইফেল কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর পর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং চারজন আহত হন।
রামাল্লাহভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী উবাই আল-আবুদি জানান, এর এক সপ্তাহ আগে তাল শহরে বসতি স্থাপনকারীরা একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন পরিবারের সদস্যরা ভেতরেই ছিলেন। স্থানীয়দের দ্রুত উদ্যোগে তারা প্রাণে রক্ষা পান।
শুক্রবারের ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়। অভিযানের অংশ হিসেবে তাল শহরে প্রায় ৭০টি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পরদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৮০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। সংগঠনটি এ অভিযানে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।
নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে ভোরের আগে নিহত চার ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অরি গোল্ডবার্গের মতে, তাল শহরের ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর বসতি স্থাপনকারীদের ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েলি সমাজে অস্বীকারের সুযোগ কমে এসেছে। তার ভাষায়, অনেক ইসরায়েলি এবার সরাসরি দেখেছেন কীভাবে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি গ্রামে প্রবেশ করেছে এবং এরপর কী ঘটেছে। তিনি মনে করেন, ঘটনাটি ইসরায়েলের উদারপন্থী অংশের মধ্যে নতুন করে প্রতিবাদের আবহ তৈরি করতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৮২ ফিলিস্তিনি নিহত, ১৩ হাজারের বেশি আহত এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সূত্র:আলজাজিরা