সংবাদ শিরোনাম

তোষামুদকারী নয়, সাংবিধানিক মর্যাদাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট চাই-জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা

 প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

তোষামুদকারী নয়, সাংবিধানিক মর্যাদাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট চাই-জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা


স্টাফ রিপোর্টার: 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে চান, যিনি মর্যাদা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের মর্যাদায় প্রেসিডেন্টকে দেখতে চাই। কোনো তোষামুদকারীকে দেখতে চাই না। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই অন্য কারও কাছে মাথানত করে দায়িত্ব পালন করবেন না।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময় সবাই যে সাংবিধানিক শপথ নিয়েছেন, সেই শপথ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করলে কোনো ধরনের সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কারণ নেই।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সময় এলে এ বিষয়ে তাদের দলের অবস্থানও স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করেন জামায়াত আমীর।

দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে দেওয়া।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। তবে নবগঠিত সংসদের কার্যক্রমে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য আলামত পাওয়া যায়, তাহলে রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে একজন নির্বাচিত হবেন। তবে যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন সংবিধানের আলোকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অযৌক্তিক আনুগত্য প্রদর্শন না করেনএটাই তাদের প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বই সম্মানজনক। একজন অফিস সহায়ক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতিসবারই দায়িত্ব আইন, নীতি ও সংবিধান অনুযায়ী পালন করা উচিত। কারও ব্যক্তিগত নির্দেশে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পদত্যাগপত্র থেকেই তারা রাষ্ট্রপতির অসুস্থতার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি চিকিৎসা নিতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর তার আস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা যেতে পারে, তবে সম্ভব হলে দেশের মধ্যেই চিকিৎসা গ্রহণ করাই উত্তম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement