সংবাদ শিরোনাম

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী

 প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমের চর্চাই প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধের মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সত্যিকার অর্থে ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো অন্যের বিশ্বাসকে অসম্মান করেন না; বরং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক চর্চাকেও সমান মর্যাদার সঙ্গে দেখেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর কিংবা ভগবানযে নামেই ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মচর্চা মানুষকে সহনশীলতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধের শিক্ষা দেয়।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা মানুষের সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার সম্পর্কের প্রতীক। একইভাবে ইসলামে নামাজ, খ্রিস্টধর্মে প্রার্থনা, বৌদ্ধধর্মে উপাসনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচারও মানুষের আত্মিক নিবেদন ও ঈশ্বরপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।

সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয় সহনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালায়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীরা জাতি, ধর্ম ও মানবতার জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এর মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজনকে প্রশ্রয় দেবে না। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় সব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement