দুর্গত এলাকায় সরকারের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত
ঢাকা, ১০ শ্রাবণ (২৫ জুলাই):
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস-পরবর্তী পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি সংস্থার পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসসমূহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, সাপের কামড় প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাইকিং ও সড়ক প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের খুঁটি ও ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকা, ত্রাণ গ্রহণে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, জেলার সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। কোথাও পানিবন্দি পরিবার নেই এবং কোনো হতাহত কিংবা পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হলেও নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। জেলার নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা ও পাহাড়ধস এবং দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রামুর বাঁকখালী নদী এবং চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার অনেক নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি এবং আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের তথ্যমতে, জেলার বন্যা পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। আকস্মিক বন্যায় ৫৭ হেক্টর কৃষিজমির ফসল, প্রায় ৪০৫টি পুকুর এবং এলজিইডি নির্মিত ৫৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ভারী বর্ষণের শুরু থেকেই পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সড়ক প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস।
বান্দরবান জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
লামা তথ্য অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে কোথাও বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানির স্তরও স্বাভাবিক রয়েছে।
রামগড় তথ্য অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও ভারী বর্ষণ না থাকায় ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে এবং বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। নতুন করে পাহাড়ধসেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবং বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য অফিসের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।