গণরায়ের পরিণতি উপেক্ষা ভালো হয় না: আব্দুল আউয়াল
খুলনা ব্যুরো :
গণরায় উপেক্ষা করার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেন, গণভোটের রায় আইনি মারপ্যাঁচ, কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক স্বার্থের বিবেচনায় উপেক্ষা করা উচিত নয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় খুলনার গ্রান্ট দরবার পার্টি সেন্টারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরের মজলিসে শুরার অধিবেশন ও নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গণরায়কে অবজ্ঞা করার কারণে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পাটাতনও নির্মিত হয়েছে গণরায়কে উপেক্ষা করার কারণে। ইতিহাস সাক্ষী, জনরায় উপেক্ষা করার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। তাই সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।’
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরের সভাপতি আলহাজ মুফতী আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং নগর সেক্রেটারি মুফতী ইমরান হুসাইনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মুফতী আহমদ আবদুল জলিল ও প্রভাষক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান।
শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, জুলাই সনদে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সনদের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটের বিরোধিতা করেনি; বরং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একাধিকবার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অসততা ও শঠতা করবেন না। গণরায়কে সম্মান জানান এবং নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন, তাতে অটল থাকুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে নেতা হিসেবে আপনি, দল হিসেবে বিএনপি এবং রাষ্ট্র—সবাই উপকৃত হবে।’
সম্মেলনে আগামী ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য মুফতী ইমরান হুসাইনকে সভাপতি এবং মাওলানা দ্বীন ইসলামকে সেক্রেটারি করে খুলনা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।