চায়ের সঙ্গে ভুল খাবারের জুটি! অজান্তেই ডেকে আনতে পারেন স্বাস্থ্যঝুঁকি
মোহাম্মদ আর্শাদ হোসেন
এক কাপ গরম চা অনেকের দিনের শুরু, আবার কারও কাছে বিকেলের ক্লান্তি দূর করার অন্যতম উপায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ের সঙ্গে সব ধরনের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী নয়। কিছু খাবারের সঙ্গে চা পান করলে হজমে সমস্যা, পুষ্টি শোষণে বাধা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চায়ে থাকা ট্যানিন ও ক্যাফেইন কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে আয়রনসহ প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যেসব খাবারের সঙ্গে চা না খাওয়াই ভালো
১. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার
গরুর কলিজা, লাল মাংস, পালং শাক, ডাল ও অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার পরপরই চা পান করলে শরীরে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২. দুধ ও অতিরিক্ত চিনি মেশানো ভারী নাশতা
অতিরিক্ত চিনি ও দুধযুক্ত চায়ের সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় ভারী খাবার খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। নিয়মিত এমন অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার ওঠানামার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার
সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, পেঁয়াজু বা অন্যান্য তেলেভাজা খাবারের সঙ্গে বারবার চা পান করলে অম্বল, গ্যাস ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের পাকস্থলীর সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
৪. লেবু মিশিয়ে দুধ চা
দুধ চায়ের সঙ্গে লেবু মেশানো উচিত নয়। এতে দুধ জমাট বাঁধতে পারে, যা স্বাদ নষ্ট করার পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রে হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
৫. ওষুধ সেবনের সময় চা
অনেকেই ওষুধ খাওয়ার সময় পানি না খেয়ে চা পান করেন। চিকিৎসকদের মতে, কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় চা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওষুধ সবসময় পরিষ্কার পানি দিয়ে খাওয়াই নিরাপদ।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কী?
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, প্রধান খাবার খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা পরে চা পান করা ভালো। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহজে শোষণ করতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ছাড়া লিকার বা হালকা দুধ চা পরিমিত পরিমাণে পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা নিজে ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিক সময়ে এবং সঠিক খাবারের সঙ্গে পান করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চা পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে চায়ের স্বাদও উপভোগ করা যাবে, আবার স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।