স্বাস্থ্য ডেস্ক:
সুস্থ দাঁত ও মাড়ি শুধু সুন্দর হাসির জন্য নয়, সামগ্রিক মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে দাঁতে ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা, মুখে দুর্গন্ধসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই দাঁত ও মাড়ির যত্নে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
দাঁত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ব্রাশ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে প্রায় দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা ভালো অভ্যাস। ব্রাশ করার সময় দাঁতের সামনের ও পেছনের অংশের পাশাপাশি মাড়ির কাছাকাছি স্থানও পরিষ্কার করতে হবে।
দাঁত পরিষ্কারের জন্য কয়লা, ছাই, লবণ বা এ ধরনের ঘষামাজা উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো দাঁতের উপরিভাগ ও মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে পান, সুপারি, জর্দা, গুল, তামাক ও ধূমপানের মতো তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা জরুরি। এসব অভ্যাস মুখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং মুখের ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
খাবার গ্রহণের পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাসও উপকারী। তবে অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয় গ্রহণের পরপরই জোরে ব্রাশ না করে কিছু সময় অপেক্ষা করে ব্রাশ করা ভালো।
দাঁতে কালো দাগ বা ছোট গর্ত দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এটি দাঁতের ক্ষয়ের (ডেন্টাল ক্যারিজ) লক্ষণ হতে পারে। ব্যথা শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে প্রাথমিক পর্যায়েই সমস্যা শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব। দেরি হলে চিকিৎসা তুলনামূলক জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে।
টুথব্রাশের ব্রিসল বেঁকে গেলে বা ক্ষয় হয়ে গেলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করা প্রয়োজন। সাধারণভাবে প্রায় তিন মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ পরিষ্কার করতে নিয়মিত ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু বাড়িতে দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। দাঁতের জমে থাকা শক্ত আবরণ বা টারটার প্রয়োজন হলে দন্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরিষ্কার করানো উচিত। নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে দাঁত ও মাড়ির সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে যাদের দাঁত বা মাড়িতে কোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
মুখের দুর্গন্ধ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতে ব্যথা, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা কিংবা দাঁতে গর্ত দেখা দিলে অবহেলা না করে দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ব্রাশ, ফ্লসিং, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তামাকজাত পণ্য পরিহার এবং সময়মতো ডেন্টাল চেকআপ—এই কয়েকটি অভ্যাসই দাঁত ও মাড়ির দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।