সংবাদ শিরোনাম

তিউনিসিয়ায় জরুরি শাসনের পাঁচ বছরে বিক্ষোভ তীব্র

 প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তিউনিসিয়ায় জরুরি শাসনের পাঁচ বছরে বিক্ষোভ তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের জরুরি ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পূর্তিতে রাজধানী তিউনিসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। তারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে গণতন্ত্রের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।

শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় হাবিব বুরগুইবা অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেন। পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালের ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট সাইদ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে সংসদ বিলুপ্ত করে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জরুরি ক্ষমতার আড়ালে প্রেসিডেন্ট সাইদ তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথকে কার্যত উল্টে দিয়েছেন। তারা ‘শাসনব্যবস্থার পতন চাই’, ‘স্বাধীনতা, কাজ ও জাতীয় মর্যাদা চাই’ এবং ‘সাইদ, পদত্যাগ করুন’-এমন নানা স্লোগান দেন। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও একই স্লোগান রাজধানীর এই সড়কে ধ্বনিত হয়েছিল।

বিরোধী দল জোমহুরি পার্টির মুখপাত্র উইসাম সঘায়ের আল জাজিরাকে বলেন, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং তাদের ব্যর্থতা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। রাজনৈতিক কারণে মামলা ও কারাবরণের হুমকি এলেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্ন নেই বলেও জানান তিনি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানান। প্রেসিডেন্ট সাইদ জরুরি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিরোধী নেতা, কর্মী ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

‘নাফাস’ নামে একটি জোটের আহ্বানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট সাইদের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের বিরোধী স্বাধীন ব্যক্তিত্বরাও অংশ নেন।

এননাহদা দলের মুখপাত্র ইমেদ আল-খামিরি আল জাজিরা আরবিকে বলেন, আন্দোলন এখন শুধু বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, জনসেবা এবং জীবনযাত্রার অবনতিতে অসন্তুষ্ট সাধারণ নাগরিকেরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘদিনের শাসক প্রেসিডেন্ট জিন এল আবিদিন বেন আলির পতনের মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সূচনা হয়। এরপর দেশটি প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে নতুন সংবিধান গ্রহণ করে।

তবে বিরোধীদের দাবি, সেই অর্জনের বড় অংশই এখন বিলীন হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট সাইদ অধ্যাদেশে শাসন শুরু করার পর বহু বিচারককে বরখাস্ত করেছেন, সরকারের মতে ‘মিথ্যা’ তথ্য প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেছেন।

কারাবন্দি নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার রাশেদ ঘান্নুচি। ৮৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিককে চলতি জুনে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় যাবজ্জীবনের পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাগারে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের দাবি, দুর্নীতি দমন এবং দেশে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই তিনি এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার ভাষ্য, এতে নাগরিকদের অধিকার বা স্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement