সংবাদ শিরোনাম

গ্রেপ্তারের চেষ্টা হলে উদ্ধার অভিযানে প্রস্তুত বিশেষ বাহিনী: নেতানিয়াহুর দাবি

 প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গ্রেপ্তারের চেষ্টা হলে উদ্ধার অভিযানে প্রস্তুত বিশেষ বাহিনী: নেতানিয়াহুর দাবি

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে কোনো দেশ তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফররত নেতানিয়াহু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আইসিসির পরোয়ানা সমর্থনকারী দেশগুলোতেও সফর করতে তিনি ভয় পান না। বিদেশ সফরের সময় বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সচেতন, তবে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে নিজেও পাঁচ বছর বিশেষ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নেতানিয়াহু জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি নিউইয়র্ক সফরে যাবেন এবং আইসিসির পরোয়ানার কারণে সেই সফর বাতিলের কোনো চিন্তা তার নেই।

নিউইয়র্কের মেয়রকে কড়া জবাব

সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে। এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এ ধরনের আহ্বানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মামদানি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইসিসির কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নয়; এ ধরনের বিষয়ের দায়িত্ব মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলোর

ট্রাম্পের আশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আশঙ্কা নেই। দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইসিসির অভিযোগ কী?

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা, হত্যা, নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের মতো অপরাধ। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, আইসিসির মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত।

ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু বলেন, এটি ছিল তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনাগুলোর একটি’

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে নাএ বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর বর্তমানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন, যদিও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement