সংবাদ শিরোনাম

গাজা সিটিতে বিমান হামলায় মসজিদ ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় উধাও

 প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গাজা সিটিতে বিমান হামলায় মসজিদ ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় উধাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে আল-মুত্তাকিন মসজিদে মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় মসজিদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় মসজিদ প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাবুও গুঁড়িয়ে যায়। পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক ভবন ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমসিএ) ভবনের কাছে অবস্থিত আল-মুত্তাকিন মসজিদ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে শত শত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। এর আগে ইসরায়েলি হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা ওই তাবুগুলোতে বসবাস করছিলেন।

গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫০টি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৯১টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজা উপত্যকায় মোট ১ হাজার ২৭৫টি মসজিদ ছিল।

গত বছরের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মধ্য গাজার বাসিন্দা, শিল্পী ও চার সন্তানের মা মাইসা ইউসুফ জানান, মসজিদে হামলার সময়ের কাছাকাছি তাদের এলাকার একটি বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, "যুদ্ধবিরতির পরও আমরা একদিনের জন্যও শান্তি দেখিনি। টানা তিন বছর ধরে মৃত্যু, গোলাবর্ষণ আর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।"

মাইসা ইউসুফের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে তাদের এলাকার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। হামলার পরিধি দ্রুত তাদের বসতির দিকে এগিয়ে আসছে। আশপাশের অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও যারা যেতে পারেননি, তারা গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে মধ্য গাজার একটি পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর পুরো আবাসিক ব্লকে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ১৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

তার ভাষ্য, হামলার কারণে জাতীয় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা 'তাওজিহি'র ফল প্রকাশের আনন্দও শোকে পরিণত হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ফল প্রকাশের আগেই নিহত হয়েছেন। কেউ কেউ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে কিংবা ফলের আনন্দ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতিকালে প্রাণ হারিয়েছেন।

মাইসা ইউসুফ জানান, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্তার ঘটছে। তার দাবি, কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো এলাকার একাধিক আবাসিক ব্লক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থেকে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১ হাজার ৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় এদের মধ্যে ৬২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে ২৬৯ জন নারী ও শিশু।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। সংঘাতে উপত্যকার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৯ লাখের বেশি মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি, বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমসিএ) একটি সামাজিক ও মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যা ধর্ম নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement