সংবাদ শিরোনাম

তায়াসিরে নতুন ইসরায়েলি বসতির আশঙ্কা বাড়ছে আরও

 প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তায়াসিরে নতুন ইসরায়েলি বসতির আশঙ্কা বাড়ছে আরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

লন্ডন, ২৯ জুলাই: অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের তুবাস শহরের পূর্বে তায়াসির সামরিক চেকপয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে মোবাইল ঘর (ক্যারাভান) স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সেখানে নতুন একটি ইসরায়েলি বসতি (সেটেলমেন্ট) গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম চলছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তুবাসের ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মুতাজ বিশারাত জানান, প্রায় দুই দশক আগে ওই এলাকায় থাকা একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে সেটি ‘গোদের’ নামে একটি বসতি আউটপোস্টে রূপ নেয়। স্থানীয় বসতি পরিষদ, ইসরায়েলি সরকারের সমর্থনে, আউটপোস্টটি পরিচালনা করছে। বর্তমানে সেটির আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় বসতি পরিষদ তায়াসির চেকপয়েন্টের কাছে কয়েক ডজন ক্যারাভান এনে স্থাপন শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে ‘গোদের’ আউটপোস্টকে পূর্ণাঙ্গ বসতিতে রূপ দেওয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট-উভয়ই অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। তবে পার্থক্য হলো, বসতি স্থাপনের জন্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকে, আর আউটপোস্টগুলো সাধারণত সেই অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠে।

আল-মালেহ গ্রাম পরিষদের প্রধান মাহদি দারাঘমেহও অভিযোগ করেন, নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গোদের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ক্যারাভান আনা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে তিনি বলেন, চেকপয়েন্টের আশপাশে ভূমি বুলডোজার দিয়ে সমতল করা হচ্ছে। সেখানে একটি সিনাগগ, বিনোদনকেন্দ্র এবং সুইমিং পুল নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

তায়াসির এলাকায় এই কার্যক্রম এমন সময়ে চলছে, যখন ফিলিস্তিনিরা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উত্তর জর্ডান উপত্যকাজুড়ে বসতি সম্প্রসারণের প্রবণতা বৃদ্ধির অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, এভাবে ধাপে ধাপে পুরো অঞ্চলে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।

ইসরায়েলি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির কর্তৃপক্ষ ৬৯টি বসতির পৌরসীমা সম্প্রসারণ করে। এর মাধ্যমে আগে প্রশাসনিক সীমার বাইরে থাকা প্রায় ৮ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা এসব বসতির আওতায় আনা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আউটপোস্ট স্থাপন ও বিদ্যমান বসতি সম্প্রসারণের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্তত এক হাজার ৯৮৮ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার কারণে সবচেয়ে বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন রামাল্লায়-১ হাজার ২০৫ জন। এরপর রয়েছে জেরিকোতে ৮৬১ জন এবং তুবাসে ৬১৯ জন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement