কৃষ্ণসার হরিণ বিতর্ক এবার রুপালি পর্দায়: আইনি লড়াইয়ে সালমান খান

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কৃষ্ণসার হরিণ বিতর্ক এবার রুপালি পর্দায়: আইনি লড়াইয়ে সালমান খান

অনলাইন ডেস্ক:

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বাতাসে ভেসে বেড়ানো এক চরম বাস্তবতার নাম কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা। সেই ১৯৯৮ সালের রাজস্থানের কোঙ্কানি গ্রামের ছায়া এখনো তাড়া করে ফিরছে বলিউড ভাইজান সালমান খানকে। ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন ঘটা সেই বিতর্কিত শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার নির্মিত হচ্ছে একটি আস্ত সিনেমা। তবে রুপালি পর্দায় সেই গল্প আসার আগেই তা রূপ নিয়েছে আইনি রণক্ষেত্রে। সিনেমার নাম ‘কালা হিরণ : দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’। মুক্তির আগেই এই সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আইনি জটিলতা ও বিতর্ক। সালমান খানের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই ছবির পরিচালক ও প্রযোজককে পাঠানো হয়েছে কড়া লিগ্যাল নোটিশ, যা বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত পরিচালক ভারত শ্রীনাথের এই নতুন সিনেমার ঘোষণা এবং পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই। নির্মাতা পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী ২০ জুন মহাসমারোহে ছবিটির টিজার প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তার আগেই সালমান খানের আইনজীবীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। সালমান খানের আইনজীবী দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ছবিটির মুক্তি আপাতত স্থগিত রাখতে হবে এবং সিনেমা-সংক্রান্ত সব ধরণের প্রচারণামূলক কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্মাতাদের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত লিখিত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নোটিশে।

সালমান খানের আইনজীবীদের প্রধান আপত্তি হলো, এই ছবির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা কাস্টিংয়ের সময় বিভিন্ন অভিনয়শিল্পীদের কাছে দাবি করছেন যে, সিনেমার গল্পটি সালমান খানের জীবনের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি। অথচ সালমান খান নিজের নাম, ব্যক্তিত্ব কিংবা তার জীবন সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা রূপালী পর্দায় দেখানোর কোনো অনুমতি দেননি। তাছাড়া আইনজীবীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই মামলাটি এখনো রাজস্থান হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে মামলাভিত্তিক সিনেমা নির্মাণ করা হলে তা সরাসরি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। কোনো ধরণের অতিরঞ্জিত বা চাঞ্চল্যকর উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সালমান খানের ন্যায্য বিচারের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে। একই সাথে, নির্মাতারা সালমান খানের তুমুল জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন বলেও নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সালমান খানের এই আইনি পদক্ষেপকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ সিনেমার প্রযোজক অমিত জানি। তিনি এই লিগ্যাল নোটিশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে একে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে, এই ধরণের নোটিশের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে ভয় দেখানো, যাতে সবাই তার তারকাখ্যাতির সামনে মাথা নত করে। মানুষকে ভয় দেখানো যদি সালমানের স্বভাব হয়, তবে ভয় না পাওয়াটাই তার নিজের স্বভাব। তিনি সালমান খানকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, সালমান যদি ভেবে থাকেন যে তিনি শেষ হয়ে গেছেন, তবে তা ভুল; তিনি এখনো লড়াইয়ের ময়দানে টিকে আছেন।

পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রযোজক বিষয়টিকে অত্যন্ত অপেশাদার এবং অপরিপক্ব কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই সিনেমাটি কোনোভাবেই সালমান খানের বায়োপিক বা জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়, তাই এই নোটিশটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। কাস্টিং ডিরেক্টর অক্ষয় পাণ্ডের উদ্দেশে পাঠানো এই নোটিশ নিয়ে সিনেমা পাড়ায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে থাকলেও, সালমান খান বা তার আইনি দল এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ১৯৯৮ সালের সেই শিকারের দায়ে ২০১৮ সালে সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই রাত কারাগারেও থাকতে হয়েছিল, যা পরে জামিনের মাধ্যমে শিথিল হয়। এখন নতুন করে এই সিনেমাটি পুরোনো সেই ক্ষতকে কতটা উসকে দেয় এবং আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বলিউড।

Advertisement
Advertisement
Advertisement