ঐতিহাসিক ১০ নম্বর: পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ জয়ের জার্সি এবার সদবিসের নিলামে

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

ঐতিহাসিক ১০ নম্বর: পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ জয়ের জার্সি এবার সদবিসের নিলামে

স্পোর্টস ডেস্ক:

ফুটবল ইতিহাসের সেই চিরস্মরণীয় মুহূর্তটি আজও বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে দোলা দেয়, যখন ১৭ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ সুইডেনের রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ব্রাজিলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। ১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের গায়ে জড়ানো ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটি এবার ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ আসছে। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘সদবিস’ ঘোষণা করেছে যে, তারা ফুটবল সম্রাট পেলের এই স্মৃতিবিজড়িত জার্সিটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে। চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নিলামের মূল আকর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পেলের এই প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্মারকটিকে।


১৯৫৮ সালের সেই অবিস্মরণীয় ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল সাম্বা জাদুকররা, যার মধ্যে দুটি নান্দনিক গোলই এসেছিল তৎকালীন তরুণ বিস্ময় পেলের বুট থেকে। সেই শুরু, এরপর রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম সোনালী ট্রফিটি যুক্ত হয়েছিল পেলের হাত ধরেই। শুধু তাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তিও তাঁর দখলে। ফুটবলের এই অবিসংবাদিত রাজা কোলন ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তাঁর প্রয়াণের পর এই জার্সিটির ঐতিহাসিক ও আবেগগত মূল্য সংগ্রাহকদের কাছে বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষক ও সদবিস কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী, পেলের এই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটির আনুমানিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ কোটি টাকারও ওপর। আগামী ২৯ জুন থেকে শুরু হয়ে এই জমকালো নিলাম প্রক্রিয়াটি চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। তবে ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে এমন আকাশচুম্বী দাম এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচের জার্সিটি রেকর্ড ৯৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। যদিও তার মাত্র কয়েক মাস পরেই বাস্কেটবল ঈশ্বর মাইকেল জর্ডানের বিখ্যাত ‘লাস্ট ডান্স’ মৌসুমের শিকাগো বুলসের জার্সিটি ১০১ লাখ ডলারে বিক্রি হয়ে ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রির ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেয়। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের এই আবেগ সংগ্রাহকদের লড়াইয়ে পূর্বের সব রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে।

সদবিসের পক্ষ থেকে এই জার্সির ইতিহাস সম্পর্কে এক রোমাঞ্চকর তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৫৮ সালের সেই ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই পেলে তাঁর গায়ে থাকা ঐতিহাসিক এই জার্সিটি সতীর্থ ও প্রিয় বন্ধু দিদাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। দিদার পরিবার পরম মমতায় কয়েক দশক ধরে ফুটবলের এই অমূল্য রত্নটি নিজেদের কাছে আগলে রেখেছিল। পরবর্তীতে এটি সাধারণ মানুষের দেখার জন্য একটি জাদুঘরে ঠাঁই পায়। এর আগে অবশ্য ২০০৪ সালেও একবার জার্সিটি নিলামে তোলা হয়েছিল, তবে এবারের নিলামের আবহ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

সদবিসের এই বিশেষ নিলামটি কেবল পেলের জার্সিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একে একটি নক্ষত্রমেলায় রূপ দেওয়া হচ্ছে। এই নিলামে আরও স্থান পাচ্ছে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা দলনেতার সেই বিখ্যাত আর্মব্যান্ড এবং বর্তমান ফুটবল বিশ্বের আধুনিক মহাতারকা লিওনেল মেসির ব্যবহৃত বেশ কিছু স্মরণীয় ক্রীড়াসামগ্রী। বিশ্বের নানা প্রান্তের সংগ্রাহক ও ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিলামে ওঠার আগে আগামী ১ জুলাই থেকে নিউইয়র্কের ‘সদবিস ব্রয়ার’ ভবনে সাধারণ দর্শকদের প্রদর্শনী ও দেখার জন্য এই ঐতিহাসিক স্মারকগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যা ক্রীড়া ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement