চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে অনন্য গৌরব: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে অনন্য গৌরব: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক:

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক টানটান উত্তেজনাকর কূটনৈতিক লড়াইয়ে বিপুল জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের এই অভূতপূর্ব ও মর্যাদাপূর্ণ সাফল্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তনের নিয়ম অনুসারে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদটি এবার পাওয়ার কথা ছিল এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের। এই পদের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ভোটগ্রহণের পর প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল ঢাকা।

এই গৌরবময় অর্জনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি পুরো দেশের জন্য এক বিরাট গৌরবের। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান, কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় আরও গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ বরাবরের মতোই শান্তি ও বন্ধুত্বের নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সাথে বর্তমান বিশ্বের জটিল বহুপাক্ষিক ও যৌথ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, ফলপ্রসূ সংলাপ এবং শক্তিশালী পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী এই নতুন এবং অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই নীতি-নির্ধারণী পদে বাংলাদেশের আসীন হওয়া কেবল একটি জয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশের প্রভাব বিস্তারের এক অনন্য সুযোগ। এর আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ সালে এই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদটি লাভ করার গৌরব অর্জন করেছিল। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ চার দশক অর্থাৎ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই সম্মানজনক পদটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো।

এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বিশ্ব রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং বাংলাদেশও অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে অনেক দূর এগিয়েছে। আধুনিক সাংবাদিকতার ধারা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই বিজয় বিশ্বশান্তি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার আদায়ে বাংলাদেশের জোরালো কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে। চার দশক পর বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ আসনে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনকে দেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বিশাল ঐতিহাসিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement