সিআইডির নতুন কাণ্ডারি ডিআইজি আলি আকবর খান: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়
অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে এলিট এবং সংবেদনশীল তদন্ত সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আলি আকবর খান। গত ১ জুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি দেওয়া হয়। দেশের অপরাধচিত্র যখন প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে, সাইবার ক্রাইম থেকে শুরু করে অর্থ পাচারের মতো জটিল অপরাধগুলো যখন নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই সিআইডির মতো একটি বিশেষায়িত ইউনিটের নেতৃত্বভার এল এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার কাঁধে।
১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলি আকবর খান। শৈশব ও কৈশোর থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ তিন দশকের কাছাকাছি ক্যারিয়ারে তিনি মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার আগে ডিআইজি আলি আকবর খান পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইউনিটে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি রেঞ্জ পুলিশে মাঠপর্যায়ের অপরাধ দমনে যেমন সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি পুলিশ অধিদপ্তর (হেডকোয়ার্টার্স) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের মতো নীতি-নির্ধারণী সংস্থায় কাজ করে আমলাতান্ত্রিক ও কৌশলগত দিক থেকেও নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজের এই বিরল সমন্বয় সিআইডি প্রধান হিসেবে তার আগামী দিনের পথচলাকে অনেক বেশি মসৃণ ও কার্যকর করবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
পুলিশের এই বিশেষায়িত অপরাধ তদন্ত বিভাগটি মূলত বহুমাত্রিক ও জটিল মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ করে থাকে। বর্তমান সময়ে সনাতন অপরাধের চেয়ে প্রযুক্তি-নির্ভর অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের তৎপরতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং, মানব পাচার, এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিআইডির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে আলি আকবর খানের মতো একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী কর্মকর্তার সিআইডি প্রধানের দায়িত্বে আসা সংস্থাটির গতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সিআইডি প্রধানের মূল লক্ষ্য হবে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মামলার জট কমানো এবং তদন্তের গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের অপরাধ দমনে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তার এই নতুন পথচলা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।