শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে গতি আনতে চায় ইউনিসেফ: ডেপুটি স্পিকারের সাধুবাদ, গোলটেবিল বৈঠকের তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিশুবান্ধব বাজেট’ ও টেকসই নীতি প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় সংসদ ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংসদীয় ককাস গঠনের আগে থেকেই শিশুদের সামগ্রিক উন্নয়নে ইউনিসেফের চলমান প্রচেষ্টাকে অনন্য ও সময়োপযোগী বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি মনে করেন, শিশুদের জন্য শুধু বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের সুরক্ষায় সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে দেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী জোরদারকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে আসে। আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার নিজের আত্মোপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের সবার ঘরেই সন্তান রয়েছে, অথচ তাদের সামগ্রিক সুরক্ষা ও অধিকারের ব্যাপারে আমরা এখনো সমাজ হিসেবে যথেষ্ট সচেতন হয়ে উঠতে পারিনি। এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম। যে সকল সংসদ সদস্যগণ আগামীতে জাতীয় সংসদে শিশুবান্ধব নীতি ও অধিকারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখবেন, তাদের সমন্বয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাজেট ও নীতি প্রণয়নে একটি সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দল বর্তমান সরকারের শিশু উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি বা নীতি-সমর্থন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বলেন, জাতীয় বাজেট ঘোষণার পূর্বে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং এবং ধারাবাহিক গোলটেবিল আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, এর মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক শিশুরা সরাসরি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে তাদের সমস্যা ও ভাবনার কথা তুলে ধরার সুযোগ পায়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়তা করে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, শিশুদের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য শুধু বাজেটে অর্থের বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। বরাদ্দের সেই অর্থ সঠিকভাবে এবং সঠিক খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বৈশ্বিক মহামারি ও অর্থনৈতিক নানা সংকটের পর শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং মানসিক বিকাশের জন্য রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখা এখন সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউনিসেফের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আগামী দিনের বাজেট প্রণয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম এবং কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন এবং শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।