ক্যাম্পাসের কোলাহল ছেড়ে নীল জলরাশিতে: স্ত্রীসহ মালদ্বীপ সফরে ডাকসু ভিপি সাদিক

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন   |   মহানগর

ক্যাম্পাসের কোলাহল ছেড়ে নীল জলরাশিতে: স্ত্রীসহ মালদ্বীপ সফরে ডাকসু ভিপি সাদিক

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির চেনা কোলাহল, মিছিল-মিটিংয়ের ব্যস্ততা আর পিচঢালা ক্যাম্পাস ছেড়ে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক। মঙ্গলবার এক স্নিগ্ধ সকালে জীবনের ব্যস্ত সূচি থেকে ছুটি নিয়ে স্ত্রীসহ পরবাসে পাড়ি জমিয়েছেন ছাত্ররাজনীতির এই পরিচিত মুখ। তবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সেমিনার বা সাংগঠনিক কাজে অংশ নিতে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এক অবকাশ যাপনে তার এবারের গন্তব্য ভারত মহাসাগরের মুক্তা হিসেবে পরিচিত অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ মালদ্বীপ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের চেনা মঞ্চ থেকে হঠাৎ করেই সমুদ্রের নীল জলরাশির টানে ভিপির এই বিদেশ যাত্রা এখন বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ‘বিএস৩৩৭’ ফ্লাইটে চেপে বসেন ভিপি সাদিক ও তার সহধর্মিণী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এই শীর্ষ ছাত্রনেতার ঢাকা ত্যাগের বিষয়টি বিমানবন্দরের সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই নজরে আসে। পাসপোর্ট নম্বর এ০-৪০০৪৬৬৮ ধারী এই ভিআইপি যাত্রীর প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর ছিল সংশ্লিষ্টদের। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায় থেকে রাত ৯টা ৪৯ মিনিটে নিশ্চিত করা হয় যে, ভিপি সাদিক তার স্ত্রীকে নিয়ে সফলভাবেই মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। এমনকি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও সফরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনেই তিনি ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

তবে এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে এমন এক সময়ে মালদ্বীপের মতো একটি বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল দেশে অবকাশ যাপনে যাওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও রাজনৈতিক অন্দরে নানামুখী গুঞ্জন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সীমিত, সেখানে একজন ছাত্রনেতার এমন জমকালো সফর নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও প্রশ্ন তুলছেন। তবে এই বিষয়ে ডাকসুর অন্য কোনো নেতার কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা এই গুঞ্জনকে আরও কিছুটা উসকে দিয়েছে।

সমালোচনার পাশাপাশি এই সফর নিয়ে ভিন্ন এক ইতিবাচক সুরও শোনা যাচ্ছে অনেকের মুখে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিমানবন্দরের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ছাত্ররাজনীতির কঠোর মানসিক চাপ এবং ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে নিজের পরিবারকে সময় দেওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়, এবং একজন নাগরিক হিসেবে তিনি মালদ্বীপ যেতেই পারেন। ক্যাম্পাসের চেনা কোলাহল আর রাজনীতির মাঠের তপ্ত রোদ থেকে দূরে গিয়ে, সমুদ্রের নীল জলরাশিতে স্ত্রীর হাত ধরে কটা দিন কাটানোর এই একান্ত সফর এখন ঢাবি পাড়ার প্রধান মুখরোচক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জল্পনা-কল্পনা যাই থাকুক না কেন, এই ব্যয়বহুল সফর ছাত্ররাজনীতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও বেশ কিছুদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement