এআই প্রযুক্তিতে সাজছে ঢাকা, ব্যাটারিচালিত রিকশা যাচ্ছে মহানগরের বাইরে
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর চিরচেনা যানজট নিরসন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকার রাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা পুরোপুরি উচ্ছেদ না করে সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে মহানগর বা মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো একদিকে যেমন শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো, অন্যদিকে চালকদের রাতারাতি বেকার না করে একটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে তাদের পুনর্বাসন করা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই ভাবনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে রাতারাতি লাখ লাখ অটোরিকশা উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের নানামুখী চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার বিষয়টি জড়িত থাকায় চালকদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে রাস্তা থেকে নামিয়ে দিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। আর সে কারণেই সরকার তাদের মহানগর এলাকার বাইরে অন্য কোনো অঞ্চলে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছে, যাতে ট্রাফিক শৃঙ্খলাও ফেরে আবার কেউ কাজও না হারায়।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, একদিকে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আর অন্যদিকে লাখ লাখ অটোরিকশার অবাধ চলাচল—এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে কীভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাতারাতি হাজার হাজার অটোরিকশা রাস্তায় নেমে এসেছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে একটি বিশেষ এআই প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা হওয়া শুরু হওয়ায় চালকদের মধ্যে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এমনকি গভীর রাতেও চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার এক ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ঢাকার সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত দৃশ্যমান এবং ইতিবাচক একটি পরিবর্তন আসবে। আধুনিক এআই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং মহানগরের বাইরে অটোরিকশার সুশৃঙ্খল পুনর্বাসন সম্পন্ন হলে ঢাকার যানজট সমস্যা চিরতরে কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।