বুমবুম আফ্রিদির মুকুটে নতুন পালক: ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত পাকিস্তান ক্রিকেটের বরপুত্র
স্পোর্টস ডেস্ক:
পাকিস্তানের ক্রিকেটে তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি এক আবেগের নাম। মাঠের চার-ছক্কার উন্মাদনা আর ট্রেডমার্ক ‘স্টারম্যান’ উদযাপনে যিনি কয়েক দশক ধরে মাতিয়ে রেখেছেন ক্রিকেট বিশ্বকে, সেই শহীদ খান আফ্রিদিকে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদায় সিক্ত করল পাকিস্তান। ক্রিকেট মাঠে অসামান্য বীরত্ব এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ প্রদান করা হয়েছে।
জমকালো আইওয়ান-ই-সদর: ফিরে দেখা ২০০৯-এর স্মৃতি
বুধবার ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট হাউস বা ‘আইওয়ান-ই-সদরে’ আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি আফ্রিদির গলায় এই সম্মাননা পদক তুলে দেন। সামরিক ও বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে তারার মেলা।
পুরস্কার প্রদানের সময় বিশেষত ২০০৯ সালের সেই ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কথা স্মরণ করা হয়। লর্ডসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফ্রিদির সেই অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসটি আজও পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আফ্রিদি কেবল একজন অলরাউন্ডার নন, তিনি পাকিস্তানের তারুণ্যের এক শক্তির প্রতীক।
মাঠ ছাড়লেও ফুরিয়ে যায়নি ধার
৪৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেটের সাথেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন। সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার ক্ষুরধার নেতৃত্ব এবং ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে তার দীর্ঘদিনের নিবেদনকে এই পুরস্কারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
একজন হার্ড-হিটিং ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর লেগ স্পিনার। তার পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তাকে ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ বলা হয়:
ওয়ানডে শাসন: ৩৯৮ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরিসহ ৮০৬৪ রান এবং ৩৯৫টি উইকেট।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট: ৯৯ ম্যাচে ১৪১৬ রান এবং ৯৮টি উইকেট।
বিশ্বব্যাপী দাপট: আইপিএল, বিপিএল, পিএসএল থেকে শুরু করে বিগ ব্যাশ—বিশ্বের হেন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নেই যেখানে আফ্রিদি তার ছাপ রেখে যাননি।
মানবিক আফ্রিদি ও আগামীর পথচলা
ক্রিকেট মাঠের বাইরেও শহীদ আফ্রিদি একজন নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবক। তার প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন’ পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এই সম্মাননা পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আফ্রিদি বলেন,
"এই পুরস্কার আমার একার নয়, এটি সেই কোটি ভক্তের যারা আমার প্রতিটি জয়ে উল্লাস করেছেন এবং পরাজয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল।"
রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি কেবল আফ্রিদির ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পাকিস্তানের ক্রিকেটের এক স্বর্ণালী যুগের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। ‘বুমবুম’ নামটা যে চিরকাল পাকিস্তানের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ প্রাপ্তি যেন তারই আনুষ্ঠানিক সিলমোহর।