রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির হাইকোর্টে জেল আপিল
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন তাদের সাজা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করেছেন। রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আপিল দুটির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স ইতোমধ্যে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনি বিধান অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদনের পর সেই দণ্ড কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়।
শুধু কারাদণ্ডই নয়, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাও আরোপ করেন। প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই অর্থ নিহত শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। জরিমানার অর্থ আদায় না হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত বিচার কার্যক্রম
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।
- ১৯ মে: রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
- ২৫ মে: তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
- ১ জুন: অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
- ২ জুন: রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
- ৩ জুন: আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
- ৭ জুন: আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনার পটভূমি
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে ২১ মে সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে।