তুরাগ অ্যাকটিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু রেকর্ডসংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে জমে উঠেছে জাতীয় স্কোয়াশের লড়াই
দেশের স্কোয়াশ অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে শুরু হয়েছে ‘তুরাগ অ্যাকটিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব। রাজধানীর আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ২৮ জেলার ৩০টি ক্লাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। উর্মি গ্রুপ ও তুরাগ অ্যাকটিভের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ আসরকে দেশের স্কোয়াশ ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত পর্বে পুরুষ ও মহিলা উন্মুক্ত বিভাগ ছাড়াও ডিপ্লোম্যাট, সৌখিন, মেম্বার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং অনূর্ধ্ব-১১, অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৫ বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্স ও আর্মি অফিসার্স মেসে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামানে। বিশেষ অতিথি ছিলেন উর্মি গ্রুপের মহাপরিচালক আসিফ আসরাফ। এছাড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম (অব.), উন্নয়ন কমিটির প্রধান মেজর শফিউল্লাহ মাস্তান এবং উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সাবেক স্কোয়াশ খেলোয়াড় ফায়াজ রহমানসহ ক্রীড়া সংগঠক, বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন, বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং প্রদর্শনী ম্যাচ উপভোগ করা হয়। আগামী ১৩ জুন বিকেলে ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে।
চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), বিএএফ শাহীন কলেজ, মিরপুর আইডিয়াল কমার্স কলেজ, ভাষানটেক সরকারি কলেজ, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, চট্টগ্রাম ক্লাব, ঢাকা স্কোয়াশ একাডেমি, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
পুরুষ উন্মুক্ত বিভাগে উত্তরা ক্লাবের সুমন ও আরিফ, গুলশান ক্লাবের আবিদ মনসুর ও সৈকত, চট্টগ্রাম ক্লাবের ফজলে ওয়ালী, বিকেএসপির দুর্জয়, পারভেজ ও আমিনুল এবং সেনাবাহিনীর একাধিক খেলোয়াড় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা বিভাগেও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতায় বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।
প্রথম দিনের খেলায় বয়সভিত্তিক ও উন্মুক্ত বিভাগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১১ বিভাগে রায়হান দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৩ বিভাগে নাফিজ, মাহি, অনিক ও মাহাবুব নিজেদের ম্যাচ জিতেছেন। অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে আরাফ ও রহমান জয় তুলে নিয়েছেন।
পুরুষ উন্মুক্ত বিভাগে গুলশান ক্লাবের সৈকত বিকেএসপির মাহফুজকে ৩-২ গেমে হারিয়ে দিনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জয় পান। এছাড়া সেনাবাহিনীর সাকিল, কামরুল, আজিজ ও শাহাদাত এবং বিকেএসপির আহাদ ও দুর্জয় নিজ নিজ ম্যাচে জয়লাভ করেন। মেম্বার ওপেন বিভাগেও ফারদিন, সাদাত ও আহসান বিজয়ী হয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, নিয়মিত জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্কোয়াশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি খেলাটির উন্নয়নে ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য উর্মি গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কোয়াশ ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগী গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উর্মি গ্রুপের প্রতিনিধি ফায়াজ রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত এই খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে তারা গর্বিত। ভবিষ্যতেও স্কোয়াশের উন্নয়নে ফেডারেশনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, কালশী, ভাষানটেক ও রজনীগন্ধা এলাকার অনেক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান বর্তমানে নিয়মিত স্কোয়াশ চর্চা করছে। সীমিত অবকাঠামো ও কোর্ট সংকটের মধ্যেও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের স্কোয়াশের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
রেকর্ডসংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাফল্য দেশের স্কোয়াশের অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বর্তমান বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের তারকারা উঠে আসবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।