শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ; দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলাটি ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত নিষ্পত্তিকৃত আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ মামলার প্রধান আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ আদালতের কাছে শাস্তি লঘুকরণের আবেদন জানিয়েছে।
রায় কার্যকরের বিষয়ে আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতে আপিল, রিভিউসহ প্রচলিত আইনগত বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগও পেয়ে থাকেন। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে রায় কার্যকর হয়।
এদিকে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি মানবিক, নিরাপদ ও শিশু-বান্ধব সমাজ গড়ে তোলার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, সচেতনতা এবং পারিবারিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।