বিসিবি নির্বাচন: ফল অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত, ভোটে নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ
মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক জাতীয় অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম, আর এবার নির্বাচন হচ্ছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির অধীনে।
দুই নির্বাচনের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য খুবই সামান্য। আগের নির্বাচন রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হলেও এবারের ভোটগ্রহণ হচ্ছে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়ে। নির্বাচন উপলক্ষে বোর্ড প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জাও করা হয়েছে। তবে নির্বাচন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্নগুলো গতবার উঠেছিল, সেগুলোর অনেকটাই এবারও রয়ে গেছে।
সমালোচকদের মতে, এবারের নির্বাচনেও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ সীমিত। গত এপ্রিলে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির ৭ সদস্যই এবার পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যাঁদের কেউ কেউ আগের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন, তাঁদেরই কয়েকজন এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রটি এতটাই সীমিত যে শক্তিশালী কোনো বিরোধী প্যানেল বা বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। প্রার্থীদের একটি অংশের সঙ্গে সরকারি দলের রাজনীতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত ১০টি পরিচালনা পদের মধ্যে ৭টিতেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। ফলে তাঁরা ইতোমধ্যেই নির্বাচিত বলে নিশ্চিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ হচ্ছে কেবল খুলনা বিভাগের দুটি এবং বরিশাল বিভাগের একটি পদের জন্য। এর মধ্যেও খুলনার লড়াই খুব বেশি জমবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরিশালে যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেটিও মূলত একই বলয়ের প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে ক্যাটাগরি–৩-এর একমাত্র পরিচালক পদেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ক্লাব প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরি–২-এ কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও নির্বাচন-পূর্ব হিসাব-নিকাশে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে একটি প্রশ্ন—এটি কি সত্যিকার অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, নাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা পূরণের একটি প্রক্রিয়া? নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই যার উত্তর অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।