ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘সময় শেষ—এখন মূল্য দিতে হবে

 প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘সময় শেষ—এখন মূল্য দিতে হবে

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এখন চরম সংকটে রয়েছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে শুধু হুমকি ও বক্তব্য দিয়েই সময় পার করেছে, কিন্তু বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত ‘প্রভাবশালী শক্তি’ এখন আর আগের অবস্থানে নেই। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির সুযোগ ইরান অনেক আগেই হারিয়েছে এবং এর পরিণতি তাদের বহন করতে হবে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা মঙ্গলবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি তাঁর প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাঁর দাবি, চলমান শান্তি আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোবিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান আগের দিনের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।

বুধবারের আরেক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামুদ্রিক অবরোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর অবরোধগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই অবরোধের কারণে ইরানের বাণিজ্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালির নিকটে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান এ ঘটনায় জড়িত। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ইরান শুরু থেকেই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, সামরিক পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Advertisement
Advertisement
Advertisement