আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল, ভোট হতে পারে অক্টোবরে আইন সংস্কার শেষে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি, নির্বাচন পরিচালনায় চাওয়া হয়েছে ২,৯০০ কোটি টাকা

 প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল, ভোট হতে পারে অক্টোবরে  আইন সংস্কার শেষে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি, নির্বাচন পরিচালনায় চাওয়া হয়েছে ২,৯০০ কোটি টাকা

 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। প্রয়োজনীয় আইন ও আচরণবিধির সংশোধন কাজ সম্পন্ন করতে পারলে আগামী আগস্টেই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ বা অক্টোবরের শুরুতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইন সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় কাঠামোয় পরিচালনার জন্য বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, আচরণবিধি এবং প্রতীক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধান নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদএই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রায় প্রস্তুত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সংশোধন করা হচ্ছে।

চলতি জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত খসড়াগুলো কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য ১৫ দিন সময় রাখা হবে। পরে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে খসড়াগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাইয়ের মধ্যেই পুরো সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসি।

সংলাপ নয়, মতামতের সুযোগ থাকবে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন। সময়স্বল্পতা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রকাশের মাধ্যমে নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত গ্রহণের সুযোগ রাখা হবে।

কোন নির্বাচন আগে, সিদ্ধান্ত পরে

বর্তমানে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে বসে নির্বাচনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে আইন ও বিধিমালার সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। আগস্টে তপশিল ঘোষণা করা হলে ভোট আয়োজন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে গড়াতে পারে। তবে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমের পরিস্থিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি বিবেচনায় রেখেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে সাধারণত নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাওয়া ২,৯০০ কোটি টাকা

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাজেট প্রস্তাবে এই অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসির হিসাব অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে মোট প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি, উপজেলা পরিষদের জন্য ২ হাজার কোটি, সিটি করপোরেশনের জন্য ৩৩০ কোটি এবং পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার চাহিদা রয়েছে।

ব্যয় সাশ্রয়ের নীতিতে নির্বাচন

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হয় এবং প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অব্যয়িত থাকে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়িয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনের নীতি অনুসরণ করা হবে।

সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) শামসুল হক ফৌজদার জানান, ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দের পরিমাণ জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর জানা যাবে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে অর্থের ঘাটতি সাধারণত বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তবে ব্যয় কমিয়ে দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement