সই জালিয়াতি বিতর্কে তৃণমূলের দুই কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি, উত্তেজনা কালীঘাট-ক্যামাক স্ট্রিটে
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বাধার মুখেও সার্চ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে দুই স্থাপনায় প্রবেশ করে তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছায় সিআইডির একটি দল। একই সময়ে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়েও তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য যাচাই করতেই এই অভিযান।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, আগেই পাঠানো একটি নোটিশের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষর কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মূল কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়।
তবে শুরু থেকেই তদন্তকারীদের প্রবেশে আপত্তি জানায় দলীয় নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতা ও আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর সিআইডি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে ঢুকতে সক্ষম হন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিল প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্ট।
অভিযানের সময় কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়। সিআইডির একটি মহিলা দলও অভিযানে অংশ নেয়।
একইভাবে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও তদন্তকারীরা প্রতিরোধের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কয়েকটি কক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং কর্মীরা সহযোগিতা করতে অনীহা দেখান। পরে সব বাধা অতিক্রম করে সেখানেও তল্লাশি চালানো হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই স্থানের অভিযান শেষ করে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে তারা বিভিন্ন নথি, রেজিস্টার ও লগবুকের তথ্য খতিয়ে দেখেছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরসংবলিত একটি তালিকা বিধানসভায় জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। পরে শপথ গ্রহণের সময় দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে ওই নথির স্বাক্ষরে অসঙ্গতি ধরা পড়লে জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর বিধানসভার সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয় এবং তদন্তভার পায় সিআইডি।
এই মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন দফা তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। সর্বশেষ জারি করা সমনে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ ছিল।
এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলটির একাংশ পৃথক হয়ে বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ নামে নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।