শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে: প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী দেশি-বিদেশি সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। সাহস, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে মানবতার সেবায় অসামান্য অবদান রাখছেন।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সদস্যরা দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। তাদের নিষ্ঠা ও সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বিশেষভাবে নারী শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নেতৃত্ব, পেশাগত যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাদের এই সাফল্য দেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির একটি অনন্য প্রতিফলন।
শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব শান্তিরক্ষী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষী এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতেই একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
তিনি সবাইকে শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির চেতনা ধারণ করে আরও নিরাপদ ও উন্নত পৃথিবী নির্মাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।