দেশে বৈধ মোবাইল সিম ৩২ কোটির বেশি, স্টার্টআপে বিনিয়োগ ১০৯ কোটি টাকা
দেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের অধীনে নিবন্ধিত ও বৈধ সিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮২ লাখে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগে ৩৬টি স্টার্টআপে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের মোবাইল সেবা খাতে চারটি অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত সিমের মোট সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ।
ডাক বিভাগের সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের লজিস্টিক সহায়তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন এবং গ্রাহকের কাছে সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’-এর কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৫৫টি স্টার্টআপকে বিনিয়োগের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে ১৯টির বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে।
ফলে বর্তমানে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য স্টার্টআপগুলোর মধ্যে রয়েছে চালডাল, টেন মিনিট স্কুল, সেবা প্ল্যাটফর্ম এবং ট্যুর বুকিং বাংলাদেশ।
সরকারের এই বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং আধুনিক ডাকসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।