সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, আপিল শুনানি ১৬ জুন

 প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, আপিল শুনানি ১৬ জুন


সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের পুরো রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আপিলের বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এই অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশনা কী ছিল

সাত আইনজীবীর করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়।

পরবর্তীতে গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন জানায়।

সচিবালয় গঠন থেকে বিলুপ্তি

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ ১৮৫ পৃষ্ঠার রায় চলতি বছরের ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। ফলে বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের কার্যক্রম পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায়।

এরপর ১৯ মে বিলুপ্ত সচিবালয়ে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত অবমাননার শামিল’শিশির মনির

সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় সচিবালয় বিলুপ্ত করার পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ জারির আগেই সচিবালয় ভেঙে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী এই প্রক্রিয়া আদালত অবমাননার সামিল।

এদিকে আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে পৃথক সচিবালয় নিয়ে আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন ১৬ জুনের শুনানির দিকে নজর থাকছে সংশ্লিষ্ট মহলের।


Advertisement
Advertisement
Advertisement